সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভ, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো তরুণ ও শিক্ষার্থী। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কিছু অংশ পরে সংঘর্ষে রূপ নিলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। দেশজুড়ে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। শুধু প্যারিসেই এতে অংশ নেন ২ লাখ মানুষ।

প্যারিস ও লিয়নে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্যারিসে মূল পদযাত্রা শেষ হওয়ার স্থানে কয়েকটি ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপকভাবে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে পুলিশ প্রচুর কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছিল। শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়ায় তাঁর সংবাদকর্মী দলকেও সেখান থেকে সরে যেতে হয়।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার বিরোধিতা করলেও সরকারের উদাসীনতাকে চলমান অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় আন্দোলন করা তরুণদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ না হলে আরও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হবে বলে লাউডস্পিকারে সতর্ক করে দাঙ্গা পুলিশ। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেন। কিছু বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ এড়াতে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানান দেন।

তবে মুখোশ পরা কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। এ সময় অন্তত একটি দাহ্য পদার্থও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস মোতায়েন করা হয়।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাকে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজছেন বলে জানা গেছে।

গত মাসে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, শিক্ষকসংকট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার নানা সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শ্রমিক সংগঠনগুলোও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। ওই কর্মসূচিও পরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

জার্মানির কোলন শহরে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাঁটাই এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। দেশটির ৩০টির বেশি শহরে এসব কর্মসূচিতে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে সেখানে পুলিশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। একই পরিস্থিতিতে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০