সর্বশেষ

জাতীয়

শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ। রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি গ্রহণ করবেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় ট্রাইব্যুনাল শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আজ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করবে। গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

কারাগারে ১১ আসামি, পলাতক ৩০

মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

এ ছাড়া কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।

শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।

পলাতক আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ ও গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।

এ ছাড়া সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানও এ মামলার পলাতক আসামি।

পলাতক তালিকায় রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম; তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান এবং সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ।

এ ছাড়া বিপ্লব কুমার সরকার, সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী মামলার পলাতক আসামি।

পলাতক ঘোষণা ও অভিযোগের বিবরণ

গত ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাঁদের সন্ধান পাননি। এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের কাছে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করা হয়।

পরে ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ না করায় ওই ৩০ জনকে পলাতক ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাঁদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০