সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতায় জার্মানিজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ফ্রাঙ্কফুর্টে সংঘর্ষ, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টের শহরের কেন্দ্রস্থলে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরও করা হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে মোলোটভ ককটেল ছোড়া হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার অথবা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায় পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আয়োজকদের পূর্বাভাস ছিল, প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৬ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে।

হ্যালোইন উৎসবের দিন আয়োজিত কর্মসূচিতে হামবুর্গের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

শিক্ষা, শান্তি ও স্বাধীনতার দাবি

বার্লিনের সমাবেশে জেন জি রেজেল্ট সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, যুদ্ধ ও বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও সহায়তা নিশ্চিত করা, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বন্ধ করা এবং সমাজের মানুষের মধ্যে দায়িত্ব ও বোঝার ন্যায্য বণ্টন তাঁদের অন্যতম দাবি।

জার্মানির হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে দোকানপাট লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুর্ফুর্স্টেনডাম শপিং অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। অনেক দোকানের সামনের অংশ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও ক্ষোভ

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্টিভ চ্যান্সেলরের। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তরুণদের উদ্বেগের জবাবে সরকার ছাঁটাই ও বাড়তি চাপ সৃষ্টি ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের দাবি উপেক্ষা করা হলে তাঁরা একত্র হওয়ার ও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন।

বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ ও ভবনের অবস্থা এমন যে সেগুলো পরিত্যক্ত স্থাপনার মতো দেখায়। অথচ শিক্ষার্থীদের সেখানেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

এদিকে জার্মানির জাতীয় শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সার্বিয়া ও ফ্রান্সে জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের পর এবার ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতেও তরুণদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক নীতি নিয়ে তাঁদের এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০