সিটি এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে এসব যান চালাতে হবে। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের স্থান এবং চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার জন্য নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এতে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি নিবন্ধন, কারিগরি মান, নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলরত ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা কার্যকর হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। সাধারণ সড়কে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার রাখা যাবে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচলের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব যানকে সব সময় সড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে ই-রিকশা চালানো যাবে না।
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যানবাহনের আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
আবেদন ও জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ই-রিকশার কারিগরি মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধন ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্ধারিত নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে এসব নম্বর ও প্লেট প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে হলে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন করতে হবে।
প্রতিটি ই-রিকশায় বুয়েট নির্ধারিত কারিগরি মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।
ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় চালকদের দায়িত্ব ও নিষিদ্ধ কার্যক্রম স্পষ্ট করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়ক বা এলাকায় ই-রিকশা চালানো দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াকেও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে যান থামাতে হবে।
১১২ বার পড়া হয়েছে