মুন্সিগঞ্জে লালন আখড়াবাড়িতে ভাঙচুর, বটগাছের ডাল কাটার অভিযোগ
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সিগঞ্জের পদ্মাহেম ধাম লালন আখড়াবাড়িতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর, ঐতিহ্যবাহী বটগাছের বড় ডাল কেটে ফেলা, বাদ্যযন্ত্র ও সিসি ক্যামেরা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পানির মোটর চুরি, সাধু-গুরুদের ছবিতে কালি লাগানোসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করেছেন আখড়াবাড়ির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মুন্সিগঞ্জের পদ্মাহেম ধাম লালন আখড়াবাড়িতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর, ঐতিহ্যবাহী বটগাছের বড় ডাল কেটে ফেলা, বাদ্যযন্ত্র নষ্ট ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পানির মোটর চুরি, সাধু-গুরুদের ছবি বিকৃত করা এবং আখড়াবাড়ির বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
আখড়াবাড়ির সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূল মঞ্চে থাকা বিশাল প্রাচীন বটগাছটির বড় ডাল কেটে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছের নিচে সাধু-গুরুরা বসে লালনগীতি পরিবেশন করেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও গাছটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। তাদের দাবি, লালনবিরোধী মনোভাবাপন্ন কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আখড়াবাড়ির ঐতিহ্য ও পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আখড়াবাড়ির হারমোনিয়াম ও একতারা ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রবেশপথের একতারা আকৃতির গেট এবং সাধু-গুরুদের ছবিতে কালি লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ফ্যান বাঁকিয়ে দেওয়া, সিসি ক্যামেরার সংযোগের তার কেটে ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পানির মোটর চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি পরিত্যক্ত অর্পিত সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা পদ্মাহেম ধামে প্রায় ২২ বছর ধরে সাধুসঙ্গ ও লালনগীতির আসর বসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধু-গুরুদের কাছে স্থানটি পরিচিত। তাদের দাবি, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ লালন আখড়াবাড়ি। নানা প্রজাতির গাছপালা ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ঘিরে গড়ে ওঠা এই ধাম মুন্সিগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।
আখড়াবাড়ির সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের পর থেকে স্থানটি দখল এবং এর নিয়মিত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা বেড়েছে। এ নিয়ে সাধুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন। তবে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনা কারা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পদ্মাহেম ধামের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সাধু-বাউলদের দীর্ঘদিনের সাধুসঙ্গের পরিসর রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে