নরসিংদীতে দুই পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে আহত ১২, আটক ৪
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর মেঘনাবেষ্টিত চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের জিতরামপুর ও টিডিরচর এলাকায় শহিদ মেম্বার ও চাঁন মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে।
নরসিংদীর চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর ও টিডিরচর এলাকায় শহিদ মেম্বার ও চাঁন মিয়া গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যায় ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিতরামপুর ও টিডিরচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁন মিয়া ও শহিদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত দুই মাসে এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চার থেকে পাঁচবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাঁরা টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন টেঁটাবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
চাঁন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন টেঁটা ও ককটেল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে তাঁদের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহিদ মেম্বার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বারবার হামলা চালিয়ে এলাকার শান্তি নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁন মিয়া বলেন, তাঁরা এলাকায় শান্তি চান, সংঘর্ষ চান না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদ মেম্বার। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে চাঁন মিয়ার লোকজন প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এ হামলার শিকার হন। এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁরা নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন এবং জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে