শেরপুরের বারোমারীতে ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব বৃহস্পতিবার
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে ফাতেমা রাণীর ২৯তম বার্ষিক তীর্থোৎসব। ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ মূলসুরে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত। তীর্থোৎসব ঘিরে খ্রিস্টভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রস্তুতির প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফাতেমা রাণীর ২৯তম বার্ষিক তীর্থোৎসব। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ খ্রিস্টান ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত এ উৎসবে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক তীর্থযাত্রী অংশ নেন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবারও দেশ-বিদেশের খ্রিস্টভক্তদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
তীর্থোৎসব উপলক্ষে পুরো তীর্থস্থান বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
জানা যায়, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লী। পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানটিকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।
তীর্থস্থানে স্থাপন করা হয়েছে ৪৮ ফুট উঁচু মা মারিয়ার মূর্তি। এর সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। তীর্থোৎসবের দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা খ্রিস্টভক্তরা সমবেত হয়ে মা মারিয়ার মূর্তির পদতলে প্রণাম জানাবেন।
ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আলোক শোভাযাত্রা। এতে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী মোমবাতি জ্বালিয়ে অংশ নেন। নিজেদের পাপ মোচনের প্রার্থনায় তাঁরা প্রায় দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি ক্রুশের পথ অতিক্রম করেন।
এ ছাড়া উৎসবের কর্মসূচিতে রয়েছে পুনর্মিলনী প্রার্থনা, সন্ধ্যাকালীন খ্রিস্টযাগ, সাক্রামেন্তের আরাধনা, নিশি জাগরণ, জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহাখ্রিস্টযোগসহ নানা ধর্মীয় আয়োজন।
এবারের তীর্থোৎসবে প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি।
তীর্থোৎসটিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকি ও সাদা পোশাকে চার শতাধিক পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এপিবিএন সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি এসআরবি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা নিয়মিত টহল দেবেন।
পুরো খ্রিস্টধর্মপল্লীকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখা হবে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বানোয়ারী বলেন, আবহাওয়া ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তীর্থোৎসব সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তীর্থোৎসব ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকি ও সাদা পোশাকে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি ও বিজিবির নিয়মিত টহল থাকবে।
তিনি বলেন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তীর্থোৎসব শুরু ও শেষ করতে পারেন, সে বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে