মক্কা প্যাক্ট আবেগের উচ্ছ্বাস নাকি সার্বভৌমত্বের দূরদর্শিতা?
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ হতাহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তি ও বাস্তব সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আবেগের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফারূক মাহমূদ।
১১ অক্টোবর, ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে হুথিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন
রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব সুরক্ষা এক বিষয় নয়।
একসময় বাংলাদেশের তৌহিদি জনতার একটি অংশ এবং সরকারের মহলবিশেষের মধ্যে মক্কা প্যাক্টে যোগদানের প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
অথচ তখনই আমি বলেছিলাম, আবেগের বশবর্তী না হয়ে এবং তাড়াহুড়ো না করে; অন্তত এক বছর মক্কা প্যাক্টের প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থের নিরিখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সেই সতর্কবাণীর জন্য আমাকে ভারতের দালাল বলেও গালমন্দ শুনতে হয়েছিল।
আজ প্রশ্ন জাগে- আবেগাপ্লুত সেই তৌহিদী উচ্চকণ্ঠের প্রত্যয় আজ কোথায়?
আঞ্চলিক সংঘাতের অভিঘাত যখন বাংলাদেশের নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নেয়,
তখন তাঁদের অবস্থান কী?
কূটনীতিতে ধর্মীয় সংহতি সম্মানের। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের চেয়ে বিচক্ষণতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের আগে তার বাধ্যবাধকতা, ঝুঁকি, সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নির্মোহভাবে যাচাই করতেই হয়।
নিরাপত্তার নামে এমন কোনো দায় যেন বাংলাদেশকে বহন করতে না হয়, যার মূল্য দিতে হয় তার নাগরিকের রক্তে, অর্থনীতিতে কিংবা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে।
তাই বারবার বলি, রাষ্ট্রের প্রথম আনুগত্য রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি; তৌহিদী জনতার অন্ধ আবেগ আর স্লোগানের প্রতি নয়।
১১৩ বার পড়া হয়েছে