সর্বশেষ

সারাদেশ

ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে ৮ কোটি টাকার সেতু বিলীন

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু বিলীন হয়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি শনিবার দুপুরের পর দেবে গিয়ে ভাঙতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো সেতুটি নদীতে প্রায় বিলীন হয়ে যায়। এতে ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের অন্তত দুই হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত সেতুটি ছয় বছর আগে চালু করা হয়েছিল। গত শনিবার দুপুরের পর সেতুটি দেবে গিয়ে ভাঙতে শুরু করে। পরে এর পুরো অংশ নদীতে প্রায় বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেতুটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের বাসিন্দারাও সেতুটি ব্যবহার করতেন। সব মিলিয়ে অন্তত দুই হাজার মানুষ এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৪ মিটার।

সেতুটির পূর্ব পাশে মানিকগঞ্জের অংশে পদ্মা নদীর মূল ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। পশ্চিম পাশে ফরিদপুরের দিকে রয়েছে নদীর আরেকটি শাখা। পদ্মার এ দুটি ধারার মাঝখানে জেগে ওঠা চরের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দুই পাশ থেকেই নদীভাঙন শুরু হওয়ায় সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ওই এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়। তবে গত ১৫ দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চার দিন ধরে সেতুর পূর্ব পাশের সড়কের অংশ নদীতে বিলীন হতে শুরু করে। শনিবার সেতুটির পূর্ব পাশের অংশ ধসে পড়ে।

মোস্তফা হোসেন আরও বলেন, গত দুই মাসে নদীভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামের ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া বসতভিটাসহ মোট ২৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। একই সময়ে অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমিও বিলীন হয়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে দেবে গেছে। সেতুটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। তবে তাতে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, কবিরপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তাঁরা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেতুটি রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় সেতুটি রক্ষা করা যায়নি। বর্ষা মৌসুমে সেতুটি রক্ষায় কার্যকর ও শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ৩৫ বছরে ওই এলাকায় এমন ভাঙন দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, নদীভাঙনের ফলে পদ্মা আবার তার পুরোনো গতিপথে ফিরে যাচ্ছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুটির দুই পাশে পদ্মা নদীর দুটি ধারা রয়েছে এবং উভয় ধারাতেই ভাঙন চলছে। চরের মাঝখানে এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করেছিল। নদীভাঙনে তীর অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরে সরে এসেছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

রাকিব হোসেন আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। নদীর পানি কমে গেলে বিশেষজ্ঞ দল এনে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৫০২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০