ষাটের দশক থেকে অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ষাটের দশকের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় নিজের অবস্থান তৈরি করা এই অভিনেত্রী বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তাঁর বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। তাঁর দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে তাঁদের পরিবার লালবাগে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস শুরু করে।
চলচ্চিত্রে নাসিমা খানের যাত্রার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। সে সময় ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিতি পেয়েছিলেন। সেই সময়েই অভিনয়জগতে নিজের জায়গা করে নেন নাসিমা খান।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেমাটিতে সহনায়িকাদের একজন ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।
একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান নাসিমা খান। এ সিনেমায় তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। সিনেমাটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি আরও বাড়ান এই অভিনেত্রী।
নাসিমা খানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩১০ বার পড়া হয়েছে