সর্বশেষ

সারাদেশ

ভাঙ্গায় একই পরিবারে ২ নামে সার ডিলারশিপ, আবেদনকারীদের ক্ষোভ 

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একই পরিবারের শাশুড়ি ও পুত্রবধূর নামে দুটি সার ডিলারশিপ থাকার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের তালিকা ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে অন্য আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় একই পরিবারের দুই সদস্যের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৯ নম্বর ঘারুয়া ইউনিয়নের শরীফাবাদ বাজারে সুমাইয়া আক্তারের নামে নতুন ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর শাশুড়ি শিউলি আক্তারের নামে আগে থেকেই একটি সার ডিলারশিপ রয়েছে। এ ঘটনায় ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে বঞ্চিত হওয়া কয়েকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলায় নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৩ জন সার ডিলারের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। তালিকায় সুমাইয়া আক্তারের নাম প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন আবেদনকারীর অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাঁকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা বাজারে বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সারের দোকান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন মরহুম কাদের বিশ্বাস। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী শিউলি আক্তারের নামে ডিলারশিপটি হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের বাকপুরা বাজারে ওই ডিলারশিপের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরিবারের বড় ছেলে পলাশ বিশ্বাস ভাঙ্গা বাজার থেকে ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বছর নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে শিউলি আক্তারের মেজ ছেলে পিয়াস বিশ্বাসের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ঘারুয়া ইউনিয়নের জন্য আবেদন করেন। পরে প্রকাশিত তালিকায় শরীফাবাদ বাজারে তাঁর নামে ডিলারশিপের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুমাইয়া আক্তার আগে ওই এলাকায় ব্যবসা করেননি। তাঁর অভিযোগ, সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দাও নন এবং শুধু একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। একই পরিবারের একজনের নামে আগে থেকেই ডিলারশিপ থাকার পর কীভাবে আরেকজনের নামে নতুন ডিলারশিপ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ওই ব্যবসায়ীর আরও অভিযোগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তদন্তের সময় অনিয়ম হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুরোনো এক সার ডিলারের পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, কাদের বিশ্বাসের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী শিউলি আক্তারের নামে ডিলারশিপ রয়েছে। এরপরও পুত্রবধূর নামে নতুন ডিলারশিপ দেওয়া হলে তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পলাশ বিশ্বাস বলেন, “আমার মায়ের নামে একটি সার ডিলারশিপ আগে থেকেই আমরা পরিচালনা করে আসছি। নতুন করে সুমাইয়া আক্তারের নামে যে ডিলারশিপটি হয়েছে, তিনি আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁরা আলাদাভাবে থাকেন।”

অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নাম কীভাবে এসেছে, বিষয়টি তদন্ত কমিটি জানে। তবে আমার মনে হয়, ভিন্ন খানা হলে এক পরিবার হয় না।”

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, একই পরিবারের দুজনের নামে ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, একই পরিবারের একজনের নামে ডিলারশিপ থাকার পর আরেকজনের নাম কীভাবে তালিকায় এসেছে, তা ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলতে পারবেন। তবে একই পরিবারের দুজনের নামে ডিলারশিপ থাকার বিষয়টি নিয়মসম্মত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমনটি হয়ে থাকলে তা বাতিল করা যাবে বলেও জানান তিনি।

এখন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০