আলফাডাঙ্গায় ভ্যান থেকে নামিয়ে পিটিয়ে দাঁত ভাঙার অভিযোগ
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাজনৈতিক পূর্ববিরোধের জেরে মো. হোসেন মৃধা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভ্যান থেকে নামিয়ে পিটিয়ে জখম, দাঁত ভেঙে দেওয়া ও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি গত ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলফাডাঙ্গা থানাধীন ১ নম্বর বুড়াইচ ইউনিয়নের বুড়াইচ সাকিন এলাকার বটতলা সরকারি পাকা সড়কে ঘটে।
এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে বুড়াইচ গ্রামের মো. রহিম শেখের ছেলে মো. সবুজ শেখ (৩০) ও মো. সজীব শেখ (২৮)–এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও পাঁচজনের নাম রয়েছে। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের সবাই আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মো. হোসেন মৃধার সঙ্গে আসামিদের রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ৪ অক্টোবর সকালে হোসেন মৃধা ও কয়েকজন সাক্ষী আলফাডাঙ্গা বাজার থেকে ভ্যানে করে বুড়াইচ বটতলা পাকা সড়কে পৌঁছালে আসামিরা তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হোসেন মৃধাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি মো. সবুজ শেখ লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে আঘাত করলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২ নম্বর আসামি মো. সজীব শেখ এসএস পাইপ দিয়ে হোসেন মৃধাকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে আসামিরা হোসেন মৃধাকে জোর করে পাশের জমিদার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রিফাত শেখ তাঁকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রাখেন। পরে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত হোসেন মৃধাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে তাঁর ভাতিজা মুজাহিদ মৃধার মাধ্যমে থানায় লিখিত এজাহারটি দাখিল করা হয়।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তনাধীন রয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে