ফরিদপুর মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পদ ৪টি, কর্মরত নেই কেউ
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের চারটি পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো পদেই চিকিৎসক কর্মরত নেই। ফলে আন্তঃবিভাগের চিকিৎসকদের শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে চলছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকসহ চারটি পদ নির্ধারিত রয়েছে। তবে বর্তমানে এসব পদে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। এ কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকদের পালাক্রমে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃবিভাগের চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জরুরি বিভাগে শিফটিং ডিউটি করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বুধবার হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৪ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৯ জন। ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন।
বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে চিকিৎসকের পদগুলো শূন্য থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে এলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চিকিৎসক সংকট থাকলে রোগীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি তাঁদের জন্য উদ্বেগের।
জেলা ছাত্রদল নেতা নীলয় চৌধুরী রেজা বলেন, এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু জরুরি বিভাগের পদগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসক পদগুলো দ্রুত পূরণ করে সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মনোতোষ কুন্ডু বলেন, ডিজি অফিসে মৌখিকভাবে বারবার জানানো হয়েছে। বর্তমানে আন্তঃবিভাগের চিকিৎসকদের দিয়ে শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে