যাদুকাটায় বালু-পাথর লুটপাটে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পাথর উত্তোলনকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে চক্রটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদনে স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। বালু-পাথরের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তোলন থেকে পাওয়া অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইজারা, উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে প্রকৃত রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে যাদুকাটা নদী থেকে অতিরিক্ত ও অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। নদীর তলদেশ ও তীরের ভারসাম্য নষ্ট হলে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য এবং আশপাশের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান, বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে বালুমহাল পরিচালনা এবং সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যাদুকাটা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ মহাল—দুটি জেলা প্রশাসকের বালুমহাল এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাথরমিশ্রিত মহালের সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সামাজিক উন্নয়ন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা—সুরমার পক্ষ থেকে পরিবেশ আইন বজায় রেখে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সেই আবেদন উপেক্ষা করে খাস কালেকশনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা একাট্টা হয়ে খাস কালেকশনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
১১৯ বার পড়া হয়েছে