আবারও বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসির নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে বেসরকারি খাতের এলপিজির প্রতি কেজির দাম হবে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। আগে এই দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। সেই হিসাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।
এর আগে গত মাসে এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে চলতি মাসে আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো।
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। সংস্থাটির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে চাহিদার তুলনায় এলপিজির সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে এলপিজির দামে সবচেয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটে। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে একই মাসের ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দেশে এলপিজির দাম কমানো হয়।
বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। নতুন নির্ধারিত প্রতি কেজির দামের ভিত্তিতে এসব সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটো গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। আগে এর দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এসব উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এ মূল্য সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি নামে পরিচিত।
সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে বাংলাদেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর চালান বা ইনভয়েস মূল্যের গড় হিসাবের পাশাপাশি পুরো মাসের জন্য ডলারের মূল্য হিসাব করেও এলপিজির দাম নির্ধারণ করে সংস্থাটি।
গ্যাসের সংকটের কারণে দেশের অনেক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে এলপিজির দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
১৪৩ বার পড়া হয়েছে