জাবিপ্রবিতে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গবেষণাগারে উদ্ভাবিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পখাতে কাজে লাগানো এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গবেষণার ফলাফল যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা বাস্তব শিল্পখাতে প্রয়োগ করা যায়—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
‘দ্য রোল অব একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন: রিসার্চ এক্সিলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সেমিনারে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ, শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন, শিক্ষার্থীদের শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে জাবিপ্রবি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বায়োজিস কসমেসিউটিক্যালস, রুপল ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়াকালচার ফার্ম, ডাটা সফট ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি ইনক. লিমিটেড, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া।
এসব সমঝোতার আওতায় যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও গবেষণাকে শিল্পখাতে ব্যবহারের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজন করা হয়। এতে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমবারের মতো এ ধরনের বড় আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নেওয়া হবে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই এই উদ্যোগের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে। গবেষণা ও শিল্পের মধ্যে এই সেতুবন্ধন জোরদার হলে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে