রাজারহাটে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, জনসম্মুখে অধ্যক্ষের পদত্যাগ
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান। ৪টি শূন্যপদে ৫০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, এই চারটি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের পাঁয়তারা চলছে।
এই দুর্নীতির প্রতিবাদে রবিবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়রা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবির মুখে একপর্যায়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান সবার সামনেই তাঁর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ সময় নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার টিআর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাজুর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ মানবণ্টন ও সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগেই প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও মাদ্রাসার শোচনীয় ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে পদত্যাগকারী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি আগেই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি তা গ্রহণ করেনি। তবে এলাকার মানুষের বিক্ষোভের মুখে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে পুনরায় স্বাক্ষর করেছেন।
নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আগামী ৫ অক্টোবর উভয় পক্ষকে নিয়ে উপজেলা কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের ডাক দিয়েছেন।
১০৫ বার পড়া হয়েছে