সর্বশেষ

সারাদেশ

কুমিল্লায় ১০ দিনে ২ হাজার ৩৫ কিশোর আটক, ৪ গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার

ইকবাল হোসেন জোবায়ের, কুমিল্লা
ইকবাল হোসেন জোবায়ের, কুমিল্লা

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ১০ দিনে ২ হাজার ৩৫ জন সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সময়ে কুমিল্লা ও কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে ‘র’ গ্যাং ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গত ১০ দিনে দুই হাজারের বেশি কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অনেককে লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা।

শনিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায়। পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ‘র’ গ্যাং ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ‘র’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের ধারায় মামলা রয়েছে ১০টি। এ ছাড়া ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম) এর নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে আটক হওয়া দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অনেকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, একটানা সাঁড়াশি অভিযানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত এলাকা এবং কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে গ্যাংয়ের চার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিত করা কোনো গ্যাং বা তথাকথিত গডফাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। কুমিল্লা থেকে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চালচলন, সামাজিক মেলামেশা ও বন্ধুসঙ্গের বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তদন্তে পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই কিশোরের কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পায়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় কুমিল্লা জেলায় মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০