দুই পায়ে শক্তি নেই, তবু শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন অপূর্ব লাল
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বামুন্দী বালিয়াকান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল। প্রায় ১০ বছর ধরে দুই পায়ে শক্তি নেই তাঁর। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় প্রতিদিন হুইলচেয়ারে করে বিদ্যালয়ে যান। পাঠদান শেষে আবার শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বাড়ি ফেরেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছেন এই শিক্ষক।
জন্মের পর সুস্থ ও স্বাভাবিকই ছিলেন অপূর্ব লাল মণ্ডল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি প্রথম পায়ে সামান্য সমস্যা অনুভব করেন। সেই সমস্যা নিয়েই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ১৯৯৯ সালে নিজের এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
এর কয়েক বছর পর ধীরে ধীরে তাঁর দুই পায়ের শক্তি কমতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরার সক্ষমতা হারান তিনি। গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তাঁর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।
অপূর্ব লাল মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীরাই তাঁর চলার সঙ্গী। কখনো কারও কাঁধে ভর করে, আবার কখনো একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তিনি বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে না দেখে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াকে নেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা সব সময় তাঁকে সহযোগিতা করেন।
তিনি আরও বলেন, বিল, বাঁওড়, মেলা কিংবা কোনো দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যেতে ইচ্ছা হলে শিক্ষার্থীরাই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব উল্লাহ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তিনি অপূর্ব স্যারের শিক্ষার্থী। তখন থেকেই দেখেছেন, বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা স্যারকে হুইলচেয়ারে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা-নেওয়া করতেন। এখন সেই দায়িত্ব তাঁরা পালন করছেন। এত কষ্টের মধ্যেও স্যার তাঁদের পাঠদান করেন এবং সুন্দরভাবে ক্লাস নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদ শেখ বলেন, অপূর্ব লাল মণ্ডল তাঁর বাল্যবন্ধু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। এক বছর আগে-পরে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও শুরু করেন। অসুস্থ বন্ধু ও সহকর্মীর জন্য খারাপ লাগলেও শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর পাশে থাকতে চান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নয়, শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পরও দায়িত্ব পালনে অপূর্ব লালের মধ্যে কোনো ক্লান্তি দেখা যায় না। তিনি যত্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ বুঝিয়ে দেন। তবে চলাচলের জন্য একটি আধুনিক হুইলচেয়ার পেলে তাঁর পাঠদান ও যাতায়াত আরও সহজ হতো।
১২১ বার পড়া হয়েছে