বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা করতে চায় সরকার
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা ও ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় সরকার।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সংলাপ ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পৃক্ততায় আগ্রহী বাংলাদেশ। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিককে একটি সার্বজনীন কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
শিশুদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শুধু সনদের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, মধ্যাহ্নভোজসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণদের যোগ্য করে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। এ জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও বৈশ্বিক অর্থায়নের পাশাপাশি সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা প্রয়োজন।
কৃষিকে দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো হচ্ছে। মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ কৃষিকে সহায়তার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
পরিবেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরশক্তির সম্প্রসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানায়ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে রয়েছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর গড়ে তোলা গেলে বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়বে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা হচ্ছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের সেবায় কার্যকরভাবে কাজ করার মতো সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সিজিএসের আয়োজনে এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
১০৮ বার পড়া হয়েছে