ঠাকুরগাঁওয়ে সরিষার বাম্পার ফলন: ২ উদ্যোক্তাকে মেশিন প্রদান
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সরিষা চাষ ও এর বহুমুখী ব্যবহারে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেলের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই সফল উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে সরিষা মাড়াই (তেল ভাঙানো) মেশিন প্রদান করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ ছাড়াও চলতি মৌসুমে হাজারো কৃষককে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে জেলায় সরিষার রেকর্ড ফলন হয়েছে।
‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় বুধবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম দুই উদ্যোক্তার হাতে তেল ভাঙানোর মেশিন দুটি তুলে দেন। আধুনিক এই সরিষা মাড়াই মেশিন পাওয়া দুই উদ্যোক্তা হলেন ফাড়াবাড়ী এলাকার দক্ষিণ রটিনা গ্রামের হারুনুর রশিদ এবং শিবগঞ্জ এলাকার মিলন সরকার।
এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মুজাহিদ এবং অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন রায়সহ স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় বাজারে খাঁটি সরিষার তেলের সরবরাহ বাড়াতে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এই আধুনিক মেশিন দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলাতেই আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১.৫১ মেট্রিক টন হিসেবে জেলায় এবার মোট ১১ হাজার ৩১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই ৪ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে, যা এ অঞ্চলের সরিষা উৎপাদনের বিগত সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সরিষার এই বাম্পার উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খাঁটি তেল সরবরাহের লক্ষ্যে জেলায় মোট ছয়টি এবং সদর উপজেলায় দুটি তেল ভাঙানোর আধুনিক মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সদর উপজেলার ২ হাজার ৬৩০ জন এবং পুরো জেলার ৭টি উপজেলায় মোট ১৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত মানের সরিষা বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
বাজারে সয়াবিন তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং ভেজাল ভোজ্য তেলের ভিড়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষার তেল অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আর্থিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদেরও বিশুদ্ধ তেলের চাহিদা মিটবে এবং আর্থিক সাশ্রয় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে