রাড্ডায় হামলায় ‘বড় ভাই’ ছাড়া সন্ত্রাসীদের এত সাহস নেই: মান্না
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, হামলা ও লুটপাটের পেছনে কোনো ‘বড় ভাই’ বা ‘বড় আপা’র মদদ না থাকলে ঢাকা শহরের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো সাহস নেই। রাজধানীর মিরপুরে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার সকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর মিরপুরে হামলা ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার সকালে পরিদর্শন শেষে তিনি হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মান্না বলেন, ‘হামলা ও লুটপাটের পেছনে কোনো বড় ভাই বা বড় আপা না থাকলে ঢাকা শহরের কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের এত সাহস নেই যে এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। আমি এখানে এসে পরিস্থিতি দেখে স্তম্ভিত।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মান্না বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে এ অপারেশন চলল, অথচ এখান থেকে থানা কত দূর? এ আধা কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ আসতে পারল না। আমাকে জানানো হয়েছে, ৯৯৯-এ কয়েকবার ফোন করার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসীর শেকড় বের করতে হবে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা প্রকাশ করা দরকার।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে মান্না বলেন, গণমাধ্যমসহ দেশবাসীকে বিষয়টির ওপর নজর রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ কেন, পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালের ওপর এমন বর্বর হামলার কথা তাঁর মনে পড়ে না।
মান্না বলেন, এটি একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে গরিব মানুষ এবং মা ও প্রসূতিদের জন্য এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর কারও রাগ থাকার কথা নয়। অথচ রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং সমস্ত সম্পত্তি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঠামোগত সংস্কারের যেসব বিষয় সামনে এসেছিল, সেগুলো করা হয়নি। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কারের বিষয়গুলোতেও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন মান্না। তিনি বলেন, তিনি সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা সাহায্য-সহযোগিতা করছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, এখন সরকারকে এগিয়ে আসতেই হবে। সরকার এ ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকলে মানুষ সরকারের দিকেই আঙুল তুলবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। তিনি বলেন, শুধু এই হাসপাতালেই নয়, আরও অনেক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক দিনে মুন্সিগঞ্জ, পাবনা এবং বিভিন্ন স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিনের পর দিন বাড়িঘর ভাঙচুর করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
মান্না বলেন, সরকার এখনই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জনগণের কাছে একটি বড় নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। এ বিষয়ে সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত।
১০৭ বার পড়া হয়েছে