বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ, সচেতনতায় নানা কর্মসূচি
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
‘জলাতঙ্ক দূরীকরণ, সবাই মিলে করণীয়’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। জলাতঙ্ক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জলাতঙ্ক বা র্যাবিস মূলত র্যাবডোভাইরাস পরিবারের একটি ভাইরাসজনিত রোগ। কুকুর, শেয়াল, বাদুড়, বেজিসহ বিভিন্ন উষ্ণ রক্তের প্রাণীর মাধ্যমে এই রোগ ছড়াতে পারে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জলাতঙ্কের উপস্থিতি রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে জলাতঙ্কে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে এ রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। জলাতঙ্কে মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশই ঘটে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হলে জলাতঙ্ক পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এ ধরনের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।
কুকুর কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হাত বা পায়ের মতো কোনো অঙ্গে কামড়ের ক্ষেত্রে র্যাবিসের টিকা কার্যকরভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এবং এর সাফল্যের হার প্রায় শতভাগ।
তবে মাথার মতো সংবেদনশীল স্থানে কামড়ের ক্ষেত্রে টিকা সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। তাই জলাতঙ্ক প্রতিরোধে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের নাম। ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর ও তাঁর সহযোগীরা জোসেফ মেস্টার নামের নয় বছর বয়সী জলাতঙ্কে আক্রান্ত এক শিশুকে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগ করে সফলতা পান। পরে এই টিকা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়। লুই পাস্তুর ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মারা যান।
জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কারে লুই পাস্তুরের অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালন করা হচ্ছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে