৩৫ কাঠা জমির বিরোধেই সালমানের স্থাপনায় ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্থাপনাসহ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ৩৫ কাঠা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের লোকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের একদল লোক রাতে বিতর্কিত জমিটি দখলে নিতে যায়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত স্থাপনাসহ সেখানে থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।
তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির এখনো ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই মামলা হতে পারে।
সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগের বিষয়েও সাংবাদিকেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, সালমান নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি তার কাছে কেউ চাঁদা না চেয়ে থাকে এবং তিনি বলেন, কেউ চাইলে তিনি দিয়ে দিতেন, তাহলে তিনি কীভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলে ঢালাও অভিযোগ করতে পারেন?’
তিনি আরও বলেন, সালমানের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি মামলা করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি যদি সুনির্দিষ্ট মামলা করেন, আমরা তদন্ত করতে পারব।’
এদিকে নাশকতার পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ওই অভিযানে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২৭ জনকে এখনো হেফাজতে রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কেউ নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কার্যালয়ে আলোচনা করতে চাইলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি। তবে ওই সমাবেশের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি।
মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওই ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির একটি ক্লিনিক ও দীর্ঘদিনের শিশু টিকাদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘তারা যে-ই হোক এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, আমরা সেটা বিবেচনায় নেব না।’
ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্য
এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি জোটের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন বক্তব্য ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণ বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হতে পারে। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে