ইতালির জন্য ৩৯ লাখ টাকা খরচে লিবিয়ায় নিখোঁজ সাইদুল, নিঃস্ব পরিবার
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নিখোঁজ হয়েছেন মাদারীপুরের যুবক সাইদুল বেপারী। গত দুই মাস ধরে তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে এবং দালালের পেছনে ৩৯ লাখ টাকা খুইয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় চোখের পানি ফেলছেন বৃদ্ধা মা, আর বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বজনেরা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকায় এখন কেবলই কান্নার রোল। ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় জিম্মি ও নিখোঁজ সাইদুল বেপারীর (৩২) বাড়িতে বইছে শোকের মাতম। ঘরের দরজা খুলে দিলেই হয়তো ছেলে ফিরে আসবে—এই আশায় প্রতিনিয়ত দরজার চৌকাঠ ধরে দাঁড়িয়ে থাকছেন মা সূর্যবান বেগম। নিখোঁজ স্বামীর পথ চেয়ে অবুঝ দুটি সন্তানকে বুকে নিয়ে কাঁদছেন স্ত্রী মেরি আক্তারও।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটকচর এলাকার মৃত বাদশা ফরাজির ছেলে আনোয়ার ফরাজী সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর লোভ দেখিয়ে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী কয়েক দফায় মোট ৩৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মানব পাচারকারী চক্রটি। প্রথমে দুবাই ও শ্রীলঙ্কা হয়ে সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একটি স্থানীয় চক্রের হাতে জিম্মি করা হয়। এরপর নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় আরও অর্থ দাবি করা হয়। গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সাথে পরিবারের সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে, উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। ধারদেনা ও সুদের টাকা মেটাতে গিয়ে ঘরবাড়ি এবং জমিজমা বিক্রি করে এখন তারা প্রায় নিঃস্ব। স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছে সাইদুলের সন্তান ও পরিবার। মানব পাচারকারী এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাইদুলের সন্ধান পেতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এই ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন। মামলায় আনোয়ার ফরাজী ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত আনোয়ার ফরাজী টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং তার স্ত্রী ১৯ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে তারা জানতে পেয়েছেন। আদালতের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থানায় এসে পৌঁছালেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে