আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে এখন আশঙ্কায় স্কুলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে ভাঙনে ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই নতুন করে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে পালরদী নদীর ভাঙনে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ও ব্রিজও ঝুঁকিতে পড়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও তা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে মিয়ারচর এলাকায় ৪০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। সর্বশেষ গত এক মাসে আরও পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে তিনি দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জমিটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছেন।
মিয়ারচরের ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা অলিল বেপারী বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকার নদীভাঙন রোধের কথা বললেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল এবং পালরদী নদীর শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুড়া খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় নদীভাঙনের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। এতে ব্রিজটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে