ঢাবিতে ভর্তি হয়েও আলামিনের পড়াশোনা অর্থসংকটে অনিশ্চিত
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও চরম অর্থসংকটে পড়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মেধাবী ছাত্র আলামিন হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম হওয়ায় তিনি এখন গ্রামে ফিরে এসেছেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের এক জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে কাটছে আলামিনের দিন। অভাবের সংসারে যেখানে দুবেলা খাবার জোগানোই কঠিন, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য এক প্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যানচালক বাবার পক্ষে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালানো এখন প্রায় অসম্ভব।
মেধাবী এই তরুণ আলামিন আক্ষেপ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দুই মাস পর তিনি হলে সিট পেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা শহরে থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনা বাবদ প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। তাঁর বাবা আলেফ আলী দিনে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন, যা দিয়ে পুরো পরিবারের ভরণপোষণই চলে না। অর্থাভাবে তাই বাধ্য হয়েই তিনি গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে এসেছেন। অথচ বর্তমানে তাঁর বন্ধুদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলামিনের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত করুণ। ২০২৩ সালে ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে তাঁর মা কাজলী খাতুন আত্মহত্যা করেন। মাতৃবিয়োগের পরও আলামিন মনোবল হারাননি। তিনি ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ৯৫তম এবং বি ইউনিটে ৫২৬তম স্থান অর্জন করে নিজের মেধার প্রমাণ দেন।
আলামিনের বাবা ও সৎমা জানান, ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো এখন তাঁদের পক্ষে জুলুমের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আলামিন তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। এদিকে স্থানীয় পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান এবং কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার আলামিনের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন এবং সরকারি বৃত্তির জন্য লিখিত আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন।
১১১ বার পড়া হয়েছে