রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিল ট্রাম্পের টেবিলে
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হয়েছে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার একটি বিল। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল।
রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে পরিচিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’।
বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। সম্ভাব্যভাবে চীন ও ভারতও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস আমদানি করে এবং আমদানি কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, তাদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তাকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও বিদেশি পক্ষের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর বিধান রয়েছে।
বিলটি নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনের বিষয়ে অনেক ডেমোক্র্যাট একমত হলেও ট্রাম্পের হাতে শুল্ক আরোপের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিক্সসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা মনে করেন, এতে প্রেসিডেন্টের শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে ভোট দেন। বিপরীতে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য এর বিরোধিতা করেন।
বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জন্য আইনটি পাসের চেষ্টা করে আসছিলেন। গত জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যুর পর বিলটির নাম তাঁর নামে রাখা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বিলটি পাসের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে।
বিলটি এখন ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন। স্বাক্ষর হলে এটি আইনে পরিণত হবে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে