তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে ময়মনসিংহে জমজমাট তালপাতার হাতপাখার বাজার
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
তীব্র গরম আর রেকর্ড লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ময়মনসিংহে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার হাতপাখার চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যেতে বসা এই কুটির শিল্পটি ফুলবাড়ীয়ার বিদ্যানন্দ গ্রামের শত শত কারিগরের মুখে ফুটিয়েছে হাসির ঝিলিক। তবে প্লাস্টিকের আগ্রাসন আর কাঁচামালের সংকটে ধুঁকতে থাকা এই প্রাচীন শিল্প টিকিয়ে রাখতে এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের প্রায় ২৫০টি পরিবার যুগ যুগ ধরে তালপাতার হাতপাখা তৈরির ঐতিহ্যবাহী ব্যবসার সাথে যুক্ত। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই গ্রামে এখন দিন-রাত চলছে পাখা তৈরির তুমুল ব্যস্ততা। কারিগরদের উঠানে স্তূপ করে রাখা তালপাতা কাটা, সুতো দিয়ে বাঁধাই করা এবং হাতল রঙ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
একটি মানসম্মত হাতপাখা তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। গাছ থেকে পাতা সংগ্রহের পর প্রায় চার ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা রোদে শুকানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট আকৃতিতে কেটে বাঁশের কঞ্চি ও রঙিন সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়। সবশেষে হাতল রঙ করে তা বিক্রির উপযোগী করা হয়। তবে দিনে দিনে তালগাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এবং কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের চেয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
প্লাস্টিকের সস্তা পাখার আগ্রাসন এবং মূলধনের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। স্থানীয় কারিগর আব্দুল সাত্তার ও রাসেল মিয়া জানান, শীত মৌসুমে তাদের প্রায় ছয় মাস সম্পূর্ণ বেকার বসে থাকতে হয়। ব্যাংক বা এনজিও থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় তারা আগে থেকে পাতা কিনে স্টক করতে পারেন না। তাছাড়া বাজারে যেখানে একটি প্লাস্টিকের পাখা ১৫-২০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে মানসম্মত তালপাতার পাখার দাম পড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
একসময় বিদ্যানন্দ গ্রাম থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, টাঙ্গাইল ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক বোঝাই করে হাতপাখা যেত। পাইকাররা আগেভাগেই দাদন দিয়ে যেতেন। তবে এখন সেই জৌলুস আর নেই। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে সম্ভাবনাময় এই লোকশিল্পটি ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, বিদ্যানন্দ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাতপাখা শিল্পের কথা তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রামটি পরিদর্শন করে কারিগরদের আর্থিক সংকট দূর করতে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
১৩০ বার পড়া হয়েছে