সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৮২

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সুদানে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার আল জারা সোনার খনির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। ওই সময় সেখানে ছোট পরিসরে কাজ করা কয়েক ডজন খনি শ্রমিক ছিলেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এএফপিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা রাতভর কাজ করেছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো জানা যায়নি। উদ্ধারকারীরা সোনা উত্তোলনে ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই মাটি ও পাথর সরানোর চেষ্টা করছেন।

বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন রয়েছেন, তাঁরা জানেন না। জীবিত বা মৃত শ্রমিকদের উদ্ধারে সবাই চেষ্টা করছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান বলেন, খনিটির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁর ধারণা, মাটির নিচে আটকা পড়া অনেক শ্রমিক আর বেঁচে নেই।

সুদানে সোনার খনিতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটির বড় একটি অংশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক তরুণ ঝুঁকি নিয়ে সোনা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হন। তাঁদের বড় একটি অংশ অনিয়ন্ত্রিত ও অনিবন্ধিত খনিতে কাজ করেন। এসব খনিতে সাধারণত হাত ও স্বল্প প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।

সোনা উত্তোলনের সময় শ্রমিকদের সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শেও আসতে হয়। এসব রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে খনি এলাকার আশপাশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সুদানের সোনার বাণিজ্যের সঙ্গে দেশটির চলমান সংঘাতেরও যোগসূত্র রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের যুদ্ধের অর্থায়নের অন্যতম উৎস সোনা বেচাকেনা।

সুদানের বেশির ভাগ সোনা ছোট ও অনানুষ্ঠানিক খনি থেকে উত্তোলন করা হয়। দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ও বন্ধ হয়ে যাওয়া খনির সুড়ঙ্গেও দুর্ঘটনা ঘটে। আবার দক্ষিণের সম্পদসমৃদ্ধ বৃহত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে অনেক অনিবন্ধিত খনি রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে দেশটির প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার আগেও ছোট ও অনানুষ্ঠানিক খনিগুলোতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন।

আফ্রিকার অন্যতম বড় সোনা উৎপাদক সুদান। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত সোনার বড় একটি অংশ সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায়।

সুদানের সোনা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুলাইয়ে সুদানে পারদ ও সায়ানাইডের বিক্রি, হস্তান্তর ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সুদানের সোনা বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০