কুয়াকাটায় গঙ্গামতি বনাঞ্চল ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা, হুমকিতে পরিবেশ
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও লেক ঘেঁষে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে পাকা স্থাপনা। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই পরিবেশবিরোধী কাজ বন্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাইর মার্কেটের পশ্চিমে গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে এই নির্মাণকাজ। সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও সংলগ্ন জলাশয় দখল করে খুঁটি পুঁতে কাঠের বড় বড় পাটাতন বসানো হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভীতি ও প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
কুয়াকাটা সৈকত সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের একটি সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, বেড়িবাঁধের বাইরে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। তবে এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার জোরে বনাঞ্চল উজাড় করার মহোৎসবে মেতে উঠেছেন। পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষগুলোর কোনো নজরদারি না থাকায় এটি আরও বেগবান হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরিবেশ সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম জানান, গঙ্গামতির এই সংরক্ষিত এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রাকৃতিক জলাশয় ও ম্যানগ্রোভ বনের কাছাকাছি অবকাঠামো তৈরি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় বনাঞ্চল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেবে। এই ভয়াবহ ক্ষতি এড়াতে এবং কুয়াকাটার সৈকত এলাকা সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মহিপুর রেঞ্জের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, তিনি স্থাপনা নির্মাণে প্রাথমিকভাবে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাণকারীরা তা অমান্য করে জমিটি নিজেদের দাবি করে কাজ অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা ভূমি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে