সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ভারত সফরে শি জিনপিং, ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন গতি!

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সাত বছর পর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ঘাটতি ও দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত বছর নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগে গতি আসে। চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকেও মোদি ও শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই নেতা মনে করেন, ভারত ও চীন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। একই সঙ্গে দুই দেশ একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়; বরং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা।

ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি ভারত ও চীনের স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের প্রায় ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ সম্পর্ক এশিয়া ও বৃহত্তর বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরে কাজানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবার শুরু করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহার এবং বিরোধের কিছু বিষয় সমাধানের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোতে থাকে।

সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়েও তাঁদের কাজ করার কথা রয়েছে।

গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লেও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

চীনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও বেশি সুযোগ চায় নয়াদিল্লি। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও ভারত জোর দিতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের সাংবাদিক হুয়াং ইউ বলেছেন, শি জিনপিংয়ের সফর দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ভাষ্য, বড় একটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে আসছে। চীনা কোম্পানিগুলো ব্রিকসের দেশগুলোতে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করেছে। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করেছে ভারত।

ছয় বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্যও আবার শুরু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সিকিমের নাথু লা পাস দিয়েও ছয় বছর পর সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হয়েছে। ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ আবার চালু হওয়াকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয় ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক তাই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ


মেটা ডেসক্রিপশন

বাংলা SEO কী-ওয়ার্ড

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০