কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, নিহত অন্তত ২৯ শিশু
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীও রয়েছে। আগুনে দুটি স্কুলসহ প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের দুটি স্কুল ও একটি আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনে উজামা প্রাইমারি স্কুল ও ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফোর্সেস/এএফসি-এম২৩-এর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। আহত ২৯ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে এএফপিকে বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় কয়েকজন একে অপরের ওপর পড়ে যান এবং কেউ কেউ পদদলিত হন। এতে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে এএফপিকে জানান, তাঁদের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। বেশির ভাগেরই ধোঁয়ার কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও কয়েকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পরে আগুনের শিখা আশপাশের দুটি স্কুলেও ছড়িয়ে পড়ে।
বুকাভু শহরটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি অভিযান জোরদার করার পর শহরটির দখল নেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। আগুনের কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তদন্ত চলার সময়ে সবাইকে শান্ত থাকা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বুকাভুতে আরও কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। গত রোববারের একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যায়।
১১০ বার পড়া হয়েছে