হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে ৭০২ এজেন্সিকে অনুমতি
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত ৭০২টি হজ এজেন্সিকে যোগ্য হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সপ্তম পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ২২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে ছয় দফায় ৬৮০টি এজেন্সিকে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। হজযাত্রী নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য তালিকায় থাকা কোনো এজেন্সি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে প্রাক্-নিবন্ধন নয়, চূড়ান্ত হজযাত্রী নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।
হজযাত্রী নিবন্ধনের আগে যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা কোনো এজেন্সি এককভাবে অথবা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলে ওই এজেন্সি বা লিড এজেন্সি সৌদি আরবে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।
এজেন্সিগুলোকে ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ নির্ধারণ করে হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্যাকেজকে হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব ও প্যাকেজের মূল্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
প্রত্যেক এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। অর্থাৎ একজন গাইডের জন্য নির্ধারিতসংখ্যক হজযাত্রী থাকলে এজেন্সিটি সমন্বয়ে অংশ নিতে পারবে। অন্যথায় লিড এজেন্সির আওতাধীন অন্য কোনো এজেন্সির কাছে হজযাত্রী স্থানান্তরের মাধ্যমে তাদের হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন এবং হজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজন হজ গাইড নিয়োগ করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমে গাইড যুক্ত করার সময় তাঁর পাসপোর্ট ও হজ পরিচালনার অভিজ্ঞতার তথ্য দিতে হবে।
অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়া যাবে না। কোনো এজেন্সি এমন উদ্যোগ নিলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তী সময়ে কোনো এজেন্সি হালনাগাদ তথ্যসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী যোগ্য তালিকায় প্রকাশ করা হবে। তবে যোগ্য তালিকা প্রকাশের পর কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তি দেওয়া হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই ওই এজেন্সির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এজেন্সিগুলোকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সিকে হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সি ছাড়া অন্য সব এজেন্সির প্রাক্-নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে কোনো এজেন্সি যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রাক্-নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হবে।
এদিকে হজ ২০২৭ মৌসুমে যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়ে লিড এজেন্সি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার মধ্যে লিড এজেন্সিতে অন্তর্ভুক্তির আবেদন ও লিড এজেন্সির সম্মতিপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যোগ্য হজ এজেন্সিগুলোর স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদারদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, হজ ২০২৭ মৌসুমের জন্য এ পর্যন্ত ৭০২টি এজেন্সি যোগ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী হজ এজেন্সিগুলো গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করেছে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সপ্তম যোগ্য তালিকার এজেন্সিসহ আগে লিডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি—এমন সব এজেন্সির দ্রুত লিড নির্ধারণ করা জরুরি।
এ অবস্থায় শনিবার বেলা দুইটার মধ্যে এজেন্সির লিডে অন্তর্ভুক্তির আবেদন এবং লিড এজেন্সির সম্মতিপত্র ০১৯৩৯০৮৩৫০৯ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে