সর্বশেষ

সারাদেশ

৪০ কোটির আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম প্রস্তুত, তবুও থমকে আছে কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গন

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম। মাঠ, গ্যালারি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা—সবই এখন প্রস্তুত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে বসানো হয়েছে পাঁচটি উন্নতমানের ক্রিকেট পিচও। জেলার ৪৭টি অধিভুক্ত ক্লাব এবং বিপুলসংখ্যক খেলোয়াড়-ক্রীড়াপ্রেমীও প্রস্তুত। কিন্তু নিয়মিত ক্লাবভিত্তিক লীগ ও প্রতিযোগিতা না থাকায় কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা।
আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক খেলা না থাকলে এর সুফল পাওয়া কঠিন। গত প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত ক্লাবভিত্তিক লীগ আয়োজন না হওয়ায় খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ কমে গেছে। এতে একদিকে যেমন খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় প্রতিভা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায় স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়। সংস্কার ও আধুনিকায়নের পর ২০২৫ সালের ৬ মার্চ স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

আধুনিকায়নের পর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিসিবি পাঁচটি উন্নতমানের ক্রিকেট পিচ স্থাপন করায় জেলার ক্রিকেটারদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমনের প্রচেষ্টায় পিচগুলো স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তবে মাঠ ও অবকাঠামো থাকলেও নিয়মিত লীগ না থাকায় সেই সম্ভাবনা কাজে লাগছে না বলে মনে করছেন সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকেরা। তাদের মতে, একটি জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে সচল রাখতে ক্লাবভিত্তিক লীগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রতিযোগিতা না থাকলে খেলোয়াড়দের দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়নের সুযোগ কমে যায়।

ক্রীড়া সংগঠকদের আরও অভিযোগ, মাঠে নিয়মিত খেলা না থাকায় তরুণদের একটি অংশ খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামাজিক পরিবেশেও। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এমনকি স্টেডিয়াম চত্বরেও মাদকের আড্ডা বসার অভিযোগ রয়েছে।

তবে পুরো চিত্রই হতাশার নয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন এবং জেলা পরিষদের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্প্রতি কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কুষ্টিয়ায় খেলাধুলা নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখনও প্রবল।

জেলা পরিষদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক কৃতি ফুটবলার অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে ক্রীড়ামহলে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. তানভীর হোসেন বলেন, স্টেডিয়াম চালুর পর থেকে বিভিন্ন খেলাধুলা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের উপস্থিতিতে মাঠ সরব থাকে। নতুন কুড়ি, জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়াসহ বিভিন্ন আয়োজনও করা হচ্ছে। তবে অধিভুক্ত ক্লাবগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত খেলা পরিচালনায় কিছু জটিলতা রয়েছে।

তিনি জানান, শিগগিরই অধিভুক্ত ক্লাবগুলোর আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কুষ্টিয়ার খেলোয়াড়দের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, কুষ্টিয়া ক্রীড়াপ্রতিভার উর্বর ভূমি। জেলার খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপসহ একাধিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ক্লাবভিত্তিক লীগ ও টুর্নামেন্ট চালুর মাধ্যমে স্টেডিয়ামকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে সংস্থার কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ ফুটবল টুর্নামেন্টে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়াবাসীর এমন ক্রীড়াপ্রেম সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদও দ্রুত ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, জেলা ক্রীড়া সংস্থা সক্রিয় না হলে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা কঠিন। যুবসমাজকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে ক্লাবভিত্তিক লীগ ও টুর্নামেন্ট বাড়ানোর বিকল্প নেই।

ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করলেই হবে না—সেখানে সারা বছর নিয়মিত খেলার আয়োজন থাকতে হবে। ক্লাবভিত্তিক লীগ, টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু হলে মাঠে ফিরবে প্রতিযোগিতার আমেজ, নতুন খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও বাড়বে।

কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—আধুনিকায়িত শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম কি নিয়মিত খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে, নাকি বিপুল অর্থের এই অবকাঠামো কেবল উদ্বোধনের স্মৃতি হয়ে থাকবে?

১১৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন