সর্বশেষ

জাতীয়

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্প মনিটরিং, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলনের ঘাটতি, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহির ঘাটতি—এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে দেওয়া জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত কোনো একক কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন থেকে শুরু করে ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, সরকারি ক্রয় এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে।

এই প্রবণতা সরকারের নজরে আসার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকাও সময়োপযোগী করার কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব, অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম—এমন প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, প্রকল্পের আওতা পরিবর্তন অথবা চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার আরও বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে ধারাবাহিকতা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপি মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন