কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে ৫ দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশের দাবি ‘চুরি’
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার একতারপুর বাজারে নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ পাঁচটি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত গভীর রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল এ তাণ্ডব চালায়। তবে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা একে ডাকাতি বললেও পুলিশ এটিকে সাধারণ ‘চুরি’ বলে দাবি করছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার একতারপুর বাজারে হানা দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা বাজারের চারজন নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে একটি চায়ের দোকানে আটকে রাখে। এরপর একে একে পাঁচটি দোকানে লুটপাট চালায় তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী প্রাণতোষ বিশ্বাস জানান, ডাকাতরা তার ‘পূর্ণ জুয়েলার্স’-এর দুটি শোরুম ও কারখানার তালা ভেঙে লকার থেকে প্রায় ২০ ভরি রুপা, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং কয়েক ভরি স্বর্ণের পুরোনো গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় তারা দোকানের সব সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে। এছাড়া মানিক জুয়েলার্স, ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, ভ্যান মেকার আব্দুল হান্নান ও ওবায়দুল ইসলামের চায়ের দোকান থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাতদের সবার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল এবং তাদের কাছে রাইফেলসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। আড়াই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালানোর পর ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় দুজন নৈশপ্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শ্মশানঘাট পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়।
এদিকে এ ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে মানতে নারাজ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন দাবি করেন, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং সাধারণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে অস্ত্রের মুখে নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রাখার পর কীভাবে এটি চুরি হয়—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে