বিদেশি নম্বরে কল করে চাঁদাবাজি, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৭
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিদেশি ভার্চ্যুয়াল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোনসহ দেশীয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে বিত্তবান ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি ভার্চ্যুয়াল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি দেখানো হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি ফোনে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ডেভিড ইমন, বড় সাজ্জাদ, কালা মোবারক ও রায়হানের মতো সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করত। সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
একইভাবে বড়দীঘির পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি আগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারীর ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার এলাকা এবং খুলশীর দামপাড়া থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি ও একটি টিপছোরাও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটটি মামলা রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আলাদা একটি চক্র গড়ে তুলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করতেন। জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে