সর্বশেষ

অর্থনীতি

সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের। এ খাতের সম্প্রসারণ হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও গ্রামীণ পর্যায়ের সৃজনশীল মানুষদের এ খাতে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বের কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ সেই পর্যায়ে যেতে না পারলেও এ খাতকে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। নারীদের জন্যও এখানে অংশগ্রহণের বড় সুযোগ রয়েছে।

দেশের খাবার, গান, সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সৃজনশীল কাজকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা বহু সৃজনশীল কাজ এখনো যথাযথভাবে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এসব কাজ বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ নিতে পারে।

গ্রামীণ গান ও স্থানীয় সৃজনশীলতার উদাহরণ দিয়ে আমির খসরু বলেন, একটি সাধারণ মানুষের তৈরি গান জনপ্রিয় হয়ে গেলে সেটিও বড় অর্থনৈতিক পণ্যে পরিণত হতে পারে। দেশের মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব নেই, প্রয়োজন সেই সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা।

এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির উদাহরণ দেন তিনি। সেখানে গ্রামের মানুষ বাড়িতে পণ্য তৈরি করলেও সরকারের সহায়তায় সেসব পণ্যের মান, নকশা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করা হয়েছে। পরে এসব পণ্য সংগ্রহ করে বিমানবন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশেও এমন একটি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, কাঁচামাল সরবরাহ, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা করা গেলে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের পণ্য বিশ্ববাজারে নেওয়া সম্ভব। এতে উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানও বাড়বে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সৃজনশীলতাকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আরও উপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্দেশে আমির খসরু বলেন, উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দিলেই হবে না। ঋণগ্রহীতার ব্যবসা ও পণ্যকে উন্নত করার জন্য ব্যাংককে পাশে থাকতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের সহায়তা দিতে হবে। এতে ১০০ টাকার একটি পণ্যকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্যে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, এসব পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যযোগ্য হলে অ্যামাজন ও আলিবাবার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানো সম্ভব।

সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব সৃজনশীল পণ্যের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখন অন্য দেশের গান, সংস্কৃতি ও বিনোদন গ্রহণ করছে। তাই বাংলাদেশের শিল্পী ও সৃজনশীল ব্যক্তিদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা দরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; এর অর্থনৈতিক রিটার্ন থাকতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংককে প্রচলিত খাতের পাশাপাশি সংগীত, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদেরও ঋণের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অর্থায়ন করাই যথেষ্ট নয়। যাঁকে অর্থায়ন করা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে ব্যাংকের একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থাকতে হবে। উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করতে হবে এবং তাঁকে শুধু ঋণগ্রহীতা হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বা এনপিএল প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি তা ১ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এতে ব্যাংকটির প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের পাইলট প্রকল্পে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি প্রাথমিকভাবে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যাংকের মুনাফা ও তা পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আরও সহায়তা করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং কুটিরশিল্প বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে একই ধরনের কাজ করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে ব্যবসার পরিসর বাড়াতে পারছে না।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা কর্মসংস্থান ব্যাংকের রয়েছে। জামানত ছাড়াই এসব জনগোষ্ঠীকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার জানান, প্রকল্পটির আওতায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে যেখানে সুদের হার সাধারণত ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে এ প্রকল্পে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে এ উদ্যোগ সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ায় তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ২ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করে, তাহলে কর্মসংস্থান ব্যাংক আরও কম সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারবে।

তিনি জানান, বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। কম ব্যবধান বা স্প্রেডে ব্যাংকটি কার্যক্রম পরিচালনা করায় ঋণের সুদের হারও তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা সম্ভব হচ্ছে।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অর্থনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন