রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের ওপর চাপ বাড়ছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করায় দেশের ওপর যেমন মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপ বাড়ছে, তেমনি আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের কৌশল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পথে। এত দীর্ঘ সময় ধরে শুধু সংকট ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে হলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত এসব নাগরিককে নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সমর্থন চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা সংকট যেন আন্তর্জাতিক মনোযোগের বাইরে চলে না যায়। এ বিষয়ে জাতিসংঘ, প্রভাবশালী দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সক্রিয় থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে বৈঠকে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে