রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথম নিজ শহরে মির্জা ফখরুল
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যে শহরে তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং রাজনীতির হাতেখড়ি; সেই ঠাকুরগাঁওয়ে এবার তিনি ফিরলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘ঘরের ছেলে’কে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কাছে পেয়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছে পুরো জেলা। প্রবল বৃষ্টিও থামাতে পারেনি প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা লাখো মানুষের উন্মাদনা।
তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে পৌরসভা চেয়ারম্যান, দলের মহাসচিব এবং সবশেষে দেশের রাষ্ট্রপতি—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিক্রমার নিবিড় সাক্ষী ঠাকুরগাঁও শহর। দেশের সর্বোচ্চ পদটি অলংকৃত করার পর নিজ শহরের মানুষদের ভালোবাসার টানে প্রথমবারের মতো তিনি ছুটে এসেছেন এখানে।
রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে রাষ্ট্রপতির পৌঁছানোর কথা থাকলেও, তিনি পৌঁছান বেলা ১টার দিকে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি যান ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরে পুরো ঠাকুরগাঁও শহরে এখন উৎসবের আমেজ। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথগুলো বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। একসময়ের কাছের মানুষকে আজ রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে ঠাকুরগাঁওবাসী গর্বিত।
এদিকে, সফর ঘিরে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো রুটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিকেলে ঐতিহাসিক বড় মাঠে রাষ্ট্রপতির সম্মানে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আকাশ কালো করে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। কিন্তু কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগই লাখো মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসকে থামাতে পারেনি। প্রিয় নেতাকে সরাসরি সামনে থেকে বরণ করে নিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠে অধীর আগ্রহে অবস্থান করেন সাধারণ মানুষ।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (পরদিন) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর এই সফর ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে এক ঐতিহাসিক স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১০৫ বার পড়া হয়েছে