তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে সাগরকন্যা কুয়াকাটা, বিলীনের পথে বনাঞ্চল
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রকৃতির ক্রমাগত রুদ্ররূপে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। বছরের পর বছর ধরে চলা তীব্র ভাঙনে সৈকতের প্রস্থ যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি একের পর এক বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল ও পর্যটন অবকাঠামো। স্থায়ী সুরক্ষার অভাব এবং অপরিকল্পিত পদক্ষেপে ঐতিহ্যবাহী এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন গুরুতর হুমকির মুখে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন পরিস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম কিংবা সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেই উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না, উল্টো সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
১৯৯৮ সালে সরকারিভাবে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণার সময় সৈকতের দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ কিলোমিটার, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে দৈর্ঘ্য বাড়লেও সাগরের তীব্র ঢেউ ও বালু ক্ষয়ের কারণে প্রস্থ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বিগত চার-পাঁচ দশকে সমুদ্রের জলসীমা প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে।
গত এক দশকে সৈকতের নারিকেল বাগান, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, ঐতিহ্যবাহী জাউবাগান, ভূমি অফিসের গেস্ট হাউসসহ অসংখ্য হোটেল-মোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, ইতিমধ্যেই কুয়াকাটার প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৈকত সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে যেমন হতাশা বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙন রোধে অতি দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ৭৫৯ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সাময়িকভাবে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান আছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে