সাফ অনূর্ধ্ব-২০: ভারতের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর স্মৃতি এখনো বাংলাদেশের যুবাদের আত্মবিশ্বাস জোগায়। তবে তাসখন্দে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে আজ সেই ভারতই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি, নতুন কোচ, নতুন খেলোয়াড়দের রসায়নের সমস্যা—সবকিছু পেছনে ফেলে ফাহিম-ইউসুফদের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা।
মালদ্বীপে গত এপ্রিলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের স্মৃতি খুব বেশি পুরোনো নয়। কিন্তু তাসখন্দে এসে বাস্তবতা অনেক কঠিন। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে আজ আবার ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায়।
এই ম্যাচের আগে দুই দলের প্রস্তুতির চিত্রে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ভারত সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুত করেছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ক্যাম্প করার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই তাসখন্দে এসে খেলতে হয়েছে তাদের।
বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক নয়। উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে দলটি। এই দুই ম্যাচের পর কোচ জোন্সের দায়িত্বও শেষ হয়েছে। নতুন কোচের অধীনে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গ্রুপের হিসাবও বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন। দুই ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে ৬ পয়েন্টে সবার ওপরে উজবেকিস্তান। ভারত ও সিরিয়ার পয়েন্ট ৩ করে। বাংলাদেশ এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। আজ ভারতকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৩। তবে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে বড় ব্যবধানের জয় প্রয়োজন।
কারণ, আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাত গ্রুপের সেরা রানার্সআপ দলও চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ কঠিন হলেও ভারতের বিপক্ষে জয় তাদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখা গেছে আক্রমণভাগে। প্রথম দুই ম্যাচে ১৮০ মিনিট খেলে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে দলটি। অর্থাৎ শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, ভারতের বিপক্ষে গোলের সুযোগ তৈরি করাও হবে বড় পরীক্ষা।
সাফজয়ী দলের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ এবার নেই। দলে এসেছে প্রবাসী ও বিদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের একটি দল। অ্যাডাম আব্বাস, জিদান ইউসুফ ও ঈশান মল্লিকদের নিয়ে আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে। কাগজে-কলমে তাদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য থাকলেও মাঠে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোঝাপড়ায় এখনো ঘাটতি চোখে পড়ছে।
প্রথম দুই ম্যাচে পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ, প্রথম স্পর্শ ও পজেশন ধরে রাখার মতো মৌলিক বিষয়েও বাংলাদেশের সমস্যা স্পষ্ট হয়েছে। আক্রমণ গড়ার সময় ভুল পাস এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব দলকে বারবার বিপদে ফেলেছে। সিরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে পরপর দুটি গোল হজম করাও রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতার উদাহরণ হয়ে আছে।
তবে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী। প্রথম দুই ম্যাচেই একাধিক ভালো সেভ করে দলকে আরও বড় ব্যবধানের পরাজয় থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। মিঠু চৌধুরী, জয় আহমেদ, শেখ সংগ্রাম ও শফিউল হোসেনদেরও আজ ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ সামলাতে বড় দায়িত্ব নিতে হবে।
অন্যদিকে ভারতও সাফের দল থেকে কিছু পরিবর্তন এনেছে। তবে তাদের কোচ মহেশ গাউলি মূলত আগের দলের ওপরই আস্থা রেখেছেন। বেঙ্গালুরু ক্যাম্পে অনেক ফুটবলারকে যাচাই করে সীমিত পরিবর্তন এনে দল সাজিয়েছেন তিনি। ফলে কোলাসো-চাহানদের মধ্যে আগের ম্যাচগুলোর বোঝাপড়া অনেকটাই অটুট।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য তাই লড়াইটা শুধু তিন পয়েন্টের নয়। নতুন কোচ, নতুন খেলোয়াড় এবং প্রস্তুতির ঘাটতি পেরিয়ে দলটি কতটা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে, সেটিও দেখা যাবে আজ। সাফের সেই স্মৃতি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, কিন্তু তাসখন্দের মাঠে ভারতের বিপক্ষে জিততে হলে স্মৃতির চেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে সংগঠিত ফুটবল, কার্যকর আক্রমণ এবং ভুল কমানোর সক্ষমতা।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে