সালথা ও বোয়ালমারীর দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধের অবসান, মিল করিয়ে দিল প্রশাসন
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার দুই বিবদমান পক্ষের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে দুই পক্ষের মুখোমুখি কোলাকুলির মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তির সুবাতাস বইছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকার মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ গ্রুপ এবং বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান মাতুব্বর গ্রুপের মধ্যে আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই দুই পক্ষের সংঘাতের জেরে একাধিকবার ভাঙচুর ও looting হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। রক্তাক্ত সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের শতাধিক সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন এবং বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসানের যৌথ উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে এক শান্তি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষকে শান্ত করার পাশাপাশি নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে কোলাকুলি করিয়ে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটানো হয়।
সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার টেবিলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দেরও সদিচ্ছা জরুরি।
অন্যদিকে, বোয়ালমারী ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান জানান, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য peaceful পরিবেশ বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিনের এই জটিল বিরোধের প্রাথমিক সমাধান করা সহজ ছিল না, তবে জনস্বার্থে এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সালথা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রশাসনের এই তড়িৎ ও যুগোপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও ভীতি তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার এক চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে