ফরিদপুরে তরুণীকে যৌনপল্লীতে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার মামলায় তানিয়া আক্তার নামের এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। আলোচিত এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে একই সাথে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত তানিয়া আক্তারকে (৪৩) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের অপর একটি ধারায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মূলত ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে ফরিদপুরের রথখোলা যৌনপল্লীতে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেতে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র্যাব-১০ ক্যাম্পে অত্যন্ত গোপনে ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে র্যা বের একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় উদ্ধারকারী দলের পক্ষে র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার চাকী তানিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
১১৩ বার পড়া হয়েছে