সর্বশেষ

আইন-আদালত

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের অংশ হিসেবে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে নির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে তাঁর দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিতে যুক্ত করা হয়।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। আদালত অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সিআইডির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পরে প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আসামিদের মধ্যে সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তাঁকে ঘুমিয়ে আছেন বলে জানানো হয়। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের অসুস্থতার কথা জানান।

পরে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে তাঁকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মামলার বাদীর অভিযোগ, সালমান শাহর শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন ও গলায় দড়ির দাগ দেখা গিয়েছিল। এসব বিষয়কে ভিত্তি করে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, সালমান শাহর বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে তিনি মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্ত কেউ মারা গিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন