কুড়িগ্রামে সার মজুদ: দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরকারি সার জব্দসহ মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কৃষি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট রুখতে প্রশাসনের এই তৎপরতা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় মধ্যরাতে এক ঝটিকা অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার।
অভিযান চলাকালে গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় মেসার্স খোকন ব্রিক্সের দুটি গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে মজুত করা ১৬ বস্তা ইউরিয়া এবং ৭ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার দায়ে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খোকনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে কুড়ারপাড় বাজারের সার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ‘মেসার্স রফিক ট্রেডার্স’ নামক দোকানে তল্লাশি চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৯ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সার মজুত করে কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। জব্দকৃত সারগুলো পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে। চাষাবাদের মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে