একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু, চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে আজ। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। আবেদন করতে হবে ২২০ টাকা ফি দিয়ে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থী যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ দিতে পারবে। আবেদন করার আগে পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাছাই পরীক্ষা বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাওয়া ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের সুযোগ
২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণ কিংবা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তন হলে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এ সময়ে আগের দেওয়া পছন্দক্রম পরিবর্তনও করা যাবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদন করার আগে যেসব তথ্য প্রয়োজন
অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর
রেজিস্ট্রেশন নম্বর
শিক্ষা বোর্ডের নাম
পাসের বছর
সচল মোবাইল নম্বর
পছন্দের কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা
যে বিভাগে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, সেই বিভাগের তথ্য
আবেদন জমা দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত ও পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো তথ্য ভুল থাকলে পরে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত
একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটা শুধু ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে হবে। ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার নাতি বা নাতনিরা এই কোটায় আবেদন করতে পারবে না।
শিক্ষা কোটায় কারা আবেদন করতে পারবে
শিক্ষা কোটাকে ইকিউ–১ ও ইকিউ–২—এই দুই ভাগে রাখা হয়েছে।
ইকিউ–১: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানেরা এই কোটায় আবেদন করতে পারবে।
ইকিউ–২: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৮টি দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানেরা এই কোটার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানেরাও এ সুবিধা পাবে।
তবে কোনো কোটাতেই নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে আবেদন করা যাবে না। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করে নির্বাচিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না।
সমান ফল হলে যেভাবে মেধাক্রম
একাধিক শিক্ষার্থীর জিপিএ সমান হলে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা, কারিগরি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ও মোট নম্বরও সমান হলে প্রথমে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল সমান হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় পাওয়া নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।
কেউ এক বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও অন্য বিভাগে আবেদন করলে জিপিএ সমান হওয়ার ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এরপরও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি: ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইন আবেদন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ফল পরিবর্তন হলে আবেদন ও পছন্দক্রম সংশোধন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্বাচন ফল, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চায়ন, ২০–২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু।
১১৯ বার পড়া হয়েছে