আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ তুমি
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০০৩ সালে যখন জীবনের কোনো সুস্পষ্ট গন্তব্য ছিল না, তখন তুমি এসেছিলে আমার জীবনে পথপ্রদর্শক হয়ে। তোমার ভালোবাসা, ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও সাহসে বদলে গেছে আমার জীবন। আজ আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন আইনজীবী—আর এই পথচলার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান তোমার। জন্মদিনে তাই নিজের প্রতি যতটা না কৃতজ্ঞ, তার চেয়েও অনেক বেশি কৃতজ্ঞ তোমার প্রতি।
আজ আমি নিজের প্রতি যতটা না কৃতজ্ঞ, তার চেয়েও অনেক বেশি কৃতজ্ঞ তোমার প্রতি। তুমি আমার জীবনে শুধু একজন জীবনসঙ্গী নও—তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, আমার পথপ্রদর্শক, আমার সাহস, আমার আশ্রয়। সত্যিই, তোমার মতো একজন মানুষকে জীবনে পাওয়া আশীর্বাদ ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।
আমাদের বিয়ে হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই সময় আমার জীবন ছিল সম্পূর্ণ অগোছালো। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে জীবনের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না, ছিল না ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। জীবন যেন চলছিল নিজের নিয়মে, নিজের গতিতে—কিন্তু কোন গন্তব্যের দিকে, তা আমিও জানতাম না।
তারপর তুমি এলে আমার জীবনে।
তুমি আমাকে কখনো হতাশ হতে দাওনি। তোমার একটি কথাই যেন আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল—
“জীবন এখনও ফুরিয়ে যায়নি। আবার পড়াশোনা শুরু করো। পড়াশোনা শেষ করে এমন একটি পেশা বেছে নাও, যেখান থেকে তোমার রাজনীতির পথও সফল হবে।”
তোমার সেই কথার মধ্যেই ছিল আমার ভবিষ্যতের বীজ। তুমি বলেছিলে—আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে।
আমি তোমার কথায় আইন পড়তে শুরু করলাম। আজ জীবনের এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন আইনজীবী। আজ আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পেছনে আমার শ্রম যতটুকু, তোমার ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও অবদান তার চেয়েও অনেক বেশি।
তোমার সেই দীর্ঘ ত্যাগের কথা লিখতে বসলে হয়তো দিনের পর দিন, রাতের পর রাত কেটে যাবে—তবুও সব বলা শেষ হবে না।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তুমি আমার পাশে থেকেছো একজন প্রকৃত বন্ধুর মতো। যখন রাজনৈতিক কারণে আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল, তখন তোমার যে ত্যাগ, যে সংগ্রাম—তা আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।
আমাকে যখন বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন দিনের পর দিন তুমি ডিবি অফিসে আমাকে খুঁজে বেড়িয়েছো। মাসের পর মাস পৃথিবীর সব কাজ, সব দায়িত্ব একপাশে রেখে তুমি আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরেছো—শুধু আমাকে মুক্ত করার জন্য।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ মাসের অক্লান্ত সংগ্রাম, অপেক্ষা আর পরিশ্রমের পর তুমি আমাকে মুক্ত করে এনেছো।
কারাগারের সেই ছোট্ট খোপের ভেতর থেকে আমি দেখেছি তোমাকে। দেখেছি, কীভাবে তুমি অসহায়ের মতো হাউমাউ করে কেঁদেছো। সেই দৃশ্য আজও আমার হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে।
তোমার চোখের সেই অশ্রু, তোমার নির্ঘুম রাত, তোমার দৌড়ঝাঁপ, তোমার অপেক্ষা—সবকিছুই আমার জীবনের কাছে এক অমূল্য ঋণ।
আজকের এই মহান দিনে আমি মহান আল্লাহর কাছে অন্তরের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করি—তিনি আমাকে তোমার মতো একজন মানুষকে আমার জীবনের সঙ্গী হিসেবে দিয়েছেন।
এই জীবনে আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। হয়তো অনেক সময় তোমার ত্যাগের মূল্য বুঝতে পারিনি, তোমার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারিনি। আমার সব ভুল, সব কষ্ট দেওয়ার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও।
আর আজ, এই বিশেষ দিনে তোমার মায়ের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা—
ধন্যবাদ মা, এমন একজন মহান মানুষকে পৃথিবীতে জন্ম দেওয়ার জন্য।
তুমি শুধু আমার জীবনের অংশ নও—তুমি আমার জীবনের ইতিহাস, আমার সংগ্রামের সঙ্গী, আমার সাফল্যের নেপথ্যের মানুষ।
শুভ জন্মদিন, আমার প্রিয়তমা।
আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন, দীর্ঘ জীবন দান করুন।
তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং সম্মান—কোনো শব্দ দিয়ে কখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
শুভ জন্মদিন, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
১৫১ বার পড়া হয়েছে