গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সংগ্রামের কথা বললেন তারেক রহমান
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য এ আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাক্ষাতে অ্যান্ডা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও দলটির হাত ধরে এসেছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ সময়ে দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা সম্ভব হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করার ক্ষেত্রে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর সরকার আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আইপিইউ সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। সেখানে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। তাঁর মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান আইপিইউ সেক্রেটারি। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
নারীর ক্ষমতায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
১৩১ বার পড়া হয়েছে